Natrum Carbonicum (nat-c) নেট্রাম কাবর্বনিকাম
পরিচয়ঃ ইহার অপর নাম সোডিয়াম কার্বনেট, সাল সোডা, ওয়াশিং সোডা।
ধাতুগত বৈশিষ্ট্যঃ অবসাদ, বায়ুগ্রস্ত, দুর্বল চিত্ত, অম্লজীর্ণগ্রস্ত ব্যক্তি ও গুপ্তরোগগ্রস্তা নারীর ঔষধ। বহুদিন পূর্বে সন্ন্যাস রোগ হয়ে স্বাস্থ্যভঙ্গ।
Antidote food/ ঔষধের ক্রিয়ানাশক খাদ্য: কফি, কর্পূর ।
ক্রিয়ানাশকঃআর্সেনিক, ক্যাম্ফর, নাইট্রি স্পিরিটাস ডালসিস।
-
স্নায়বিক দুর্বলতা বা মানসিক অবসাদ।
-
দুগ্ধ পানে বৃদ্ধি। দুগ্ধ একেবারে সহ্য করিতে পারে না।
-
প্রস্রাব অত্যন্ত দুর্গন্ধযুক্ত।
-
পায়ের গোছের দুর্বলতা।
-
কিছু খাইলেই উপশম হয় । কিন্তু মধু খাইলে বৃদ্ধি হয়।
সামান্য মাত্র পরিশ্রমে পীড়া লক্ষণের বৃদ্ধি। কোন মানসিক কাজ করিতে গেলেই মাতা ঘোরা, মস্তিষ্কের জড়তা উপস্থিত হয়।
কাতরতাঃ
শীতকাতর (দ্বিতীয় গ্রেড): [Dr. Robert Gibson Miller]
শীতকাতর ( তৃতীয় গ্রেড): [James Tyler Kent]
গরমকাতর (তৃতীয় গ্রেড): [James Tyler Kent]
উভয়কাতর (তৃতীয় গ্রেড): [Dr. Robert Gibson Miller]
মায়াজমেটিক অবস্থাঃ (মায়াজমের দোষ নষ্ট করার শক্তি):
- এন্টি-সোরিক (দ্বিতীয় গ্রেড)
- এন্টি-সাইকোটিক (তৃতীয় গ্রেড)
মূল কথাঃ
- স্নায়বিক দুর্বলতা বা মানসিক অবসাদ।
- কোনরূপ গোলমাল পছন্দ করে না।
- গান বাজনা অসহ্য, বিরক্ত।
- ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনায় উদ্বেগ ও অস্থিরতা।
- দুগ্ধে বৃদ্ধি।
- আহারে উপশম কিন্তু মধু খাইলে বৃদ্ধি।
- পায়ের গোছের দুর্বলতা।
- প্রস্রাব ঘোড়ার প্রস্রাবের ন্যায় অত্যন্ত দুর্গন্ধযুক্ত হয় (নাইট্রিক এসিড)।
- বাম পার্শ্ব চাপিয়া শুইতে পারে না।
-
সহবাস অন্তে জরায়ু দিয়া শ্লেষ্মা নির্গমনবশত বন্ধ্যাদোষ।
ব্যবহারস্থলঃ সর্দি-গর্মির মন্দফল জনিত পীড়া, রৌদ্রের ভিতর কাজ করিবার ফলে শিরঃপীড়া, ছাত্র ছাত্রীদের মাথাধরা, নাসিকার স্ফীতি, চক্ষুর শ্বেত অংশের ক্ষত, বধিরতা, গলগন্ড, তোতলামি, দন্তশূল, আঁচিল, দাঁদের ন্যায় উদ্ভেদ, বাধক, মূর্চ্ছাবায়ু, অজীর্ণ, বন্ধ্যাত্ব প্রভৃতি রোগের উত্তম ঔষধ।
উপশম/হ্রাসঃ খাইবার পর (পেটের শূন্যভাব), শরীর ঘামিয়া গেলে, নড়াচড়া করিলে, নাকের ভিতর ও কানের ভিতর আঙ্গুল ঢুকাইয়া চুলকাইলে, চাপে, ঘর্ষণে উপশম।
বৃদ্ধিঃ রৌদ্রে, উত্তাপে, গ্যাসের আলোতে কাজ করিলে, দৈহিক বা মানসিক পরিশ্রমে, সঙ্গীত শ্রবণের পর, জলে ভিজিলে, শীতল জল পানের পর, ঝড় বৃষ্টির দিনে, বজ্রপাত সহ ঝড়বৃষ্টিতে, বাম পাশে শয়নে, পূর্ণিমায়, দুগ্ধপানে, নিরামিষ আহারে, মিষ্টি খাইবার পর বৃদ্ধি। ভোর ৫ টায় রোগের বৃদ্ধি-এসময় ভয়ানক ক্ষুধা বোধ হয়, বেলা ১০ টা থেকে ১১ টার মধ্যে, একদিন অন্তর বৃদ্ধি।
ক্রিয়া স্থিতিকালঃ ২৮-৩০ দিন।
ঔষধের পরিপন্থী বা অনিষ্টকর খাদ্য (Inimical food): মদ্য, ভিনিগার, সবুজ শাক-সব্জি, শুকরের মাংস, মিষ্টি, দুগ্ধ, টক, গোল মরিচ, গুরুপাক খাদ্য, মাখন, ফল, চর্বি, শ্বেতসারময় খাদ্য, শুষ্ক খাদ্য, ঠান্ডা খাদ্য, ঠান্ডা পানীয়, উত্তাপ্ত অবস্থায় ঠান্ডা জল পান করা, গ্রীষ্মকালে ঠান্ডা জল পান করা, মধু ।
লক্ষণ সূত্রঃ এম,
ভট্রাচার্য্য: পৃষ্ঠা-৬০৭, এন, সি ঘোষ: পৃষ্ঠা-৪৮৯, উইলিয়াম বোরিক:
পৃষ্ঠা-৩২০, নরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়: পৃষ্ঠা-৩১৩, অতুল কৃষ্ণ দত্ত:
পৃষ্ঠা-৬৪৭, ই. এ. ফ্যারিংটন: পৃষ্ঠা-৫৩২, জেমস টেইলর কেন্ট: পৃষ্ঠা-৫৬২,
ই. বি ন্যাশ: পৃষ্ঠা-৪৪১, জে এম মিত্র: পৃষ্ঠা-৫৫৯, এস কে সাহা:
পৃষ্ঠা-২৮৭, এইচ. সি এলেন: পৃষ্ঠা-১৯৪ ।