Hyoscyamus Niger (hyos) হায়োসায়েমাস নাইগার
পরিচয়ঃ অপর নাম: হেনবেন জ্যাঙ্কুইয়ামাই, শূকর সীম বা বিষ তামাক ।একটি লতানো গাছ।
ধাতুগত বৈশিষ্ট্যঃ কথাবার্তায় অভদ্র এবং নিলর্জ আচরণ করিবার প্রবণতা, অত্যন্ত বাঁচালতা এবং যে নারী নিজ দেহকে অনাবৃত বা যোনিদেশের আচ্ছাদন খুলিয়া ফেলিতে বিশেষ তৎপর এবং ঈর্ষাপরায়ন-এমন রোগীদের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে প্রযোজ্য।ইহার রোগীর মুখমন্ডল ঠান্ডা, ফ্যাকাশে ও নীলবর্ণ, কখনও ফুলাফুলা। মুখের পেশীসকল নাচিতে থাকে, চোয়াল দুইটি আড়ষ্ট হইয়া যায়।
Antidote food/ ঔষধের ক্রিয়ানাশক খাদ্য: কফি, কর্পূর, ভিনিগার, ঠান্ডা পানীয় ।
ক্রিয়ানাশকঃ বেলেডোনা, ক্যাম্ফর, চায়না, ক্যামোমিলা, এসে-এসি, এসি-নাইট্রি।
কাতরতাঃ
শীতকাতর (দ্বিতীয় গ্রেড) : [Dr. Robert Gibson Miller এবং James Tyler Kent]
গরমকাতর (দ্বিতীয় গ্রেড): [Synthesis]
মায়াজমেটিক অবস্থাঃ (মায়াজমের দোষ নষ্ট করার শক্তি)
- এন্টি-সোরিক (৩য় গ্রেড) ।
- এন্টি-টিউবারকুলার (৩য় গ্রেড) ।
- রোগাক্রান্ত হওয়ার অনতিবিলম্বে এত দুর্বল হয় যে, সে তন্দ্রাচ্ছন্নভাবে পড়িয়া থাকে।
- রোগের প্রথম অবস্থায় নিস্তেজ হওয়ার আগ পযর্ন্ত (অল্প কিছুক্ষণের জন্য) মারিতে যাওয়া, কামড়াইতে চাওয়া, বিছানা হইতে লাফাইয়া পড়া ইত্যাদি প্রলাপের প্রচন্ডতা দেখা যায়।
- রোগী প্রায় সর্বদাই নগ্ন বা উলঙ্গ থাকিতে চায়-জননেন্দ্রিয়ের উপর কোনরূপ আবরণ রাখিতে চায় না।
- সর্বদাই ভয় করিতে থাকে যে লোকে তাকে বিষ খাওয়াইয়া মেরে ফেলবে।
- পানি দেখিলেই ভয়ে শিহরিয়া উঠে, মুখ-জিহবা শুকাইয়ে যায়, তথাপি পানি পাল করতে চায় না ।
- প্রবল পিপাসা সত্ত্বেও ক্ষণে ক্ষণে একটু করিয়া পানি পান করে।
-
সংজ্ঞাশূন্য আক্ষেপ।
হায়োসিয়ামাসের দুটো কথা:
-
বিশেষ করে চেনা মানুষের/লোকজনের ভয়।
-
চারপাশের মানুষজন তার ক্ষতি করতে যাচ্ছে-এমন প্রবল অনুভূতি।
-
মনে করে যে তার চেনা মানুষগুলোর কারণেই তাকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
-
কখনোই তাদের (মানুষজনের) বিশ্বাস করতে পারে না।
-
আর এক প্রকার ভ্রান্ত ধারণা যে, তার চারপাশের মানুষের সকলেরই অশুভ উদ্দেশ্য রয়েছে।
-
কাছের মানুষের কাছে সাহায্য চায় না; ভান্ত ধারণা যে, অপরিচিতগণ তাকে সাহায্য করতে পারে।
-
বন্ধুর সংখ্যা কম।
-
Affectation/ভান করার সাথে সবসময় যে বিষয়টি থাকবে সেটি হলো high-spirited.
-
ইহা কলহ এবং অশ্লীলতা দোষাত্নক উন্মত্ততার একটি সুস্পষ্ট চিত্র।
-
বিভিন্ন
কার্য্, অঙ্গভঙ্গী এবং কথাবার্তাতে অভদ্র এবং নির্লজ্জ আচরণ করিবার
প্রবণতা, অত্যন্ত বাঁচালতা এবং স্বীয় দেহকে অনাবৃত অথবা তাহার যোনিদেশের
আচ্ছাদন খুলিয়া ফেলিতে বিশেষ তৎপর।
-
ঈর্ষা পরায়ন, কেহ বিষ প্রয়োগ করিবে-এই ভয়ে ভীত।
-
টাইফয়েড বা অন্যান্য রোগে উন্মীলিত নেত্রে অচৈতন্য অবস্থা-বিশেষ লক্ষণ।
-
বিড়বিড়
করিয়া অস্পষ্ট বকে আবার কাজও করিয়া যায় (প্রলাপ বকায় বেলেডোনা ও
ট্র্যামোনিয়ামের ন্যায় প্রচন্ডতা থাকে না) যেখানে অনিদ্রার কোনও প্রকৃত
কারণ পাওয়া যায় না-সেখানে হায়োসিয়ামস উপকারী।
মূল কথাঃ
- ভীষণ সন্দেহ পরায়ণ ও সন্দিদ্ধচিত্ত প্রকৃতির ।
- রোগী মনে করে তাঁহার স্ত্রী তাহাকে বিষ পান করাইবে।
- ঔষধ খাইতে চাহে না-মনে করে তাঁকে বিষ খাওইয়া মারিয়া ফেলিবার চেষ্ট করিতেছে।
- প্রায় সর্বদাই নগ্ন থাকিতে চায়।
- সর্বদাই জননেন্দ্রিয় লইয়া নাড়াচাড়া করিতে থাকে।
- অশ্লীল গান গাহিতে ও অশ্লীল কথা বলিতে থাকে।
- পীড়িত অবস্থায় ভীষণ কামুক হয়।
- ভালবাসা সংক্রান্ত ব্যাপারে ঈর্ষা।
- মস্তিষ্ক প্রদাহ হইলে কামভাবের প্রাবাল্য আসে।
- রোগ আক্রমণের অল্প সময়ের মধ্যে ভীষণ দুর্বল হইয়া পড়ে এবং তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাবে পড়িয়া সর্বদাই প্রলাপ বকিতে থাকে।
- আক্ষেপকালে রোগী একেবারেই জ্ঞানহীন হইয়া পড়ে।
- প্রবল পিপাসা থাকে এবং ক্ষণে ক্ষণে একটু করিয়া জল পান করে। জলাতঙ্কও খুব বেশি।
ব্যবহারস্থলঃ ঔষধটির ক্রিয়াকেন্দ্র জ্ঞানাত্বিকা স্নায়ুমন্ডলী, মস্তিষ্ক ও পৃষ্ঠবংশীয় স্নায়ুমন্ডল।ইহার মানসিক লক্ষণই সর্বাধিক প্রণিধান যোগ্য। মানসিক বিকৃতি, উন্মত্ততা, কামোন্মত্ততা, সূতিকা উম্মাদ, মস্তিষ্ক ও মেরুমজ্জার ঝিল্লী প্রদাহ, ধনুষ্টংকার, তান্ডব, মৃগী নানাবিধ আক্ষেপ, জলাতংক, মূত্রাশয়ের আক্ষেপ, টাইফয়েড জ্বর, নিউমোনিয়া, বিকার অবস্থা, প্রসবের পর স্রাব, মূত্র রোধ, কাশি, হিক্কা, ক্রোধের মন্দফল প্রভৃতি ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
ক্রিয়াস্থলঃ স্নায়ুকেন্দ্রের উপর ইহার ক্রিয়ার আধিক্য থাকে।
উপশম/হ্রাসঃ হেঁট হইলে, বিছানায় উঠিয়া বসিলে, গরমে, চলিলে, সম্মুখদিকে ঝুঁকিলে উপশম
বৃদ্ধিঃ রাত্রে বৃদ্ধি, ঋতুকালে বৃদ্ধি, আহারের পরে এবং শয়ন কালে (কাশি), মানসিক চাপে, ঈর্ষান্বিত হলে বৃদ্ধি
ক্রিয়া স্থিতিকালঃ৬-১৪ দিন।
ঔষধের পরিপন্থী বা অনিষ্টকর খাদ্য (Inimical food): ঠান্ডা পানীয়, ব্র্যান্ডি ।
লক্ষণ সূত্রঃ এম,
ভট্রাচার্য্য: পৃষ্ঠা-৪৩৯, এন, সি ঘোষ: পৃষ্ঠা-৩৬৭, উইলিয়াম বোরিক:
পৃষ্ঠা-২৩৭, নরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়: পৃষ্ঠা-২২৫, অতুল কৃষ্ণ দত্ত:
পৃষ্ঠা-৪৯৬, ই. এ. ফ্যারিংটন: পৃষ্ঠা-৩৩২, জেমস টেইলর কেন্ট: পৃষ্ঠা-৪১৫,
নীলমনি ঘটক: পৃষ্ঠা-৪০৯, ই. বি ন্যাশ: পৃষ্ঠা-১১২, জে এম মিত্র:
পৃষ্ঠা-৪১২, এস কে সাহা: পৃষ্ঠা-৪৬৯, এইচ. সি এলেন: পৃষ্ঠা-১৩৭, জন হেনরি
ক্লার্ক: পৃষ্ঠা-৭৮২ ।