প্রধান সমস্যা:
জন্মের
পর থেকেই ঠান্ডায় সংবেদনশীল। অতি সহজেই, বার বার ঠান্ডা লাগে। বর্তমানে
প্রতিদিন ইনহেলার নিতে হয়। প্রথমে কাশি হয়ে শ্বাসকষ্ট উঠে। দীর্ঘ সময়
ধরে থেকে থেকে কাশির দমক আসে। সকালে ঘুম থেকে উঠার পর ও রাতে শোয়ার পর
বেশি হয়। ধোঁয়ায় বেশি হয়। শ্বাসকষ্ট খোলা বাতাসে আরাম হয়। দরজা-জানালা
খুলে রাখা পছন্দ করে। প্রতিবার সর্দির সাথে জ্বর আসে। কাশতে কাশতে বমি
করে, ভেজা ঠান্ডায় বেশি হয়।
আনুষঙ্গিক সমস্যা:
১. ক্রনিক টনসিলাইটিস। ফুলে, শক্ত হয়ে আছে। প্রতিবার ঠান্ডা লাগলে ব্যথা করে।
২. ডান পাশের টনসিল বেশি ফোলা।
৩. ঘাড়ের কিছু গ্ল্যান্ডও ফোলা। ডানপাশে বেশি।
অতীত ইতিহাস:
সিজারিয়ান
জন্ম। ২ বৎসর বয়সে প্রথমবার গরুর দুধ খাওয়ানোর পর নিউমোনিয়া দেখা দেয়-
এলোপ্যাথিতে চিকিৎসা করা হয়। এরপর এ পর্যন্ত ৪ বার নিউমোনিয়া দেখা
দিয়েছে। ২ বৎসর বয়সে একটি চর্মরোগও দেখা দেয়- যা মলম দিয়ে সারানো (!)
হয়েছিলো। ফন্টানেল খুব ধীরে ধীরে বন্ধ হয়েছে। হাঁটতে কিছুটা দেরিতে
শিখেছে।
পারিবারিক ইতিহাস:
বাবা: এলার্জিক সমস্যা
মা: বাচ্চা পেটে থাকাকালীন সময়ে, ৭ মাসের কালে প্রচণ্ড ভয় পান।
সার্বিক লক্ষণ:
ক) মোটাসোটা, থলথলে বাচ্চা। পেশীগুলো থলথলে। দেখতে সুন্দর তবে পাঁচ বছরের বাচ্চার তুলনায় দুর্বল মনে হয়, নড়াচড়া তুলনামূলকভাবে কম।
খ) খাদ্যগ্রহণ: ক্ষুধা ভালো। জাঙ্ক ফুড যেমন- পিৎজাম বার্গার, হট-ডগ পছন্দ করে। মিষ্টি ও লবণাক্ত খাবার পছন্দ। চর্বি অপছন্দ। পিপাসাহীন।
গ) রেচন: পায়খানা – স্বাভাবিক। প্রস্রাব – স্বাভাবিক। ঘাম- প্রচুর। ঘাড়-গলা, সারভিক্যাল অংশ ও বুক ঘামে।
ঘ) ঘুম: ভালো। ঘুমের মধ্যে কথা বলে। বার বার শোয়ার পজিশন পরিবর্তন করে।
ঙ) কাতরতা: রোগী শীত ও গরম- উভয়েই কাতর। সূর্যতাপে গেলে প্রচুর ঘামের সাথে দুর্বলতা দেখা দেয়। ঠান্ডা আবহাওয়ায় ঢেকে-ঢুকে থাকতে পছন্দ করে।
চ) মানসিক বৈশিষ্ট্য: খিটখিটে, ক্রোধপরায়ণ মেজাজ। বাজে গালাগালি করে, মানুষজন পছন্দ করে না। শারীরিক শ্রম ভীষণ অপছন্দ। চুপচাপ, নিরিবিলি থাকতে পছন্দ করে।কুকুর, বিড়াল, বুকে-হাটা পোকামাকড় ভয় পায়। মাকড়শা, বিছা, বজ্রপাত, উপরে থেকে নিচে তাকানোতে ভয়। বিড়াল ও সাপের স্বপ্ন দেখে। অন্ধকারে ভয়। ব্যথায় অত্যানুভূতিপ্রবণ।
তারিখ: 05/06/13
Calcarea carb – 10M/ 1 dose
SL for 15 days.
ফলো-আপ:
তারিখ: 27/06/13
ঔষধ গ্রহণের পর পর
কয়েকদিন শ্বাসকষ্ট বরঞ্চ একটু বেশি দেখা দেয়। তারপর তা বেশ কমে যায়।
ঠান্ডা এখনো আর লাগেনি। ঘাড়ের গ্ল্যান্ডগুলি সংখ্যায় ও আকারে কম। রোগীকে
দেখতে সার্বিকভাবে ভালো লাগছে। মেজাজ কিছুটা কম করেছে বলে মা জানালেন।
SL for 15 days.
তারিখ: 24/07/13
রোগী আরো উন্নত ও
অনেকটা ভালো। শ্বাসকষ্ট অনেকটা কম। ঘাড়ের গ্ল্যান্ড ফোলা বেশ কমে গেছে-
গুটিকয়েক আকারে ছোট হয়ে আছে। টনসিলও আকারে কমেছে। মেজাজ বেশ ভালো।
SL for 15 days.
তারিখ: 21/08/13
আরো উন্নত। এখন
ইনহেলার প্রায় লাগেই না- হঠাৎ দুই-একবার ব্যবহার করতে হয়েছে।দুই পাশের
টনসিলই এখন এক সমান আকৃতির। ঘাড়ে কোন গ্লান্ডের ফোলা নেই। ঠান্ডা বাতাস
লাগানোর পর থেকে কয়েকদিন যাবৎ নাক দিয়ে পানির মতো পাতলা স্রাব। ইদানীং
হাতের ও পায়ের তলা ঘামছে। রাগ কমেছে কিন্তু জেদ আছে। ঘুমের মধ্যে ঘামে-
বিশেষ করে পিঠের উপরের অংশ।
Silica – 1M/ 1 dose
SL for 15 days.
তারিখ: 24/09/13
ইনহেলার নিতে হচ্ছে
না। যদিও মাঝে মাঝে ঠান্ডায় গেলে শ্বাসকষ্টের ভাব মনে হয়। রোগী
সার্বিকভাবে ভালো আছে। আর ঠান্ডা লাগেনি। নাকের স্রাব নেই। কোন অভিযোগ নেই।
SL for 15 days.
তারিখ: 23/10/13
টনসিল ছোট হয়ে একই অবস্থায় আছে। হাতের ও পায়ের তলার ঘাম কমেছে। শরীর প্রচুর ঘামছে। এছাড়া আর কোন অভিযোগ নেই।
SL for 15 days.
তারিখ: 14/12/13
ঠান্ডা লেগেছে ৪ দিন যাবৎ। ঠান্ডা লাগার পর টনসিল
ফুলে গেছে। গলাব্যথা- গরম পানি খেলে, কাপড় দিয়ে গলা পেঁচিয়ে রাখলে আরাম।
ঠান্ডা পানি খেলে বাড়ে। ব্যথা বামপাশে বেশি। প্রচণ্ড শীত লাগছে, ঢেকে
থাকতে চায়।
Hepar sulph – 200/ 6 doses, 8 hourly
SL for 15 days.
তারিখ: 10/01/14
ঠান্ডা-সর্দি ও
টনসিলের সমস্যা চলে গেছে। টনসিল এখন আগের চাইতেও ছোট। ফোলাটা প্রায় চলে
গেছে। বামপাশেরটা সামান্য একটু বড় কিন্তু ব্যথা বা একিউটনেস নেই। ঠান্ডা
আর লাগেনি। এবারের ঠান্ডা লাগার পরও শ্বাসকষ্ট হয়নি। এছাড়া রোগী ভালো
আছে।
Thuja – 10M/ 1 dose
SL – for 21 days.
এরপর রোগী 26/03/14 ইং তারিখে আসে। তার টনসিল ও শ্বাসকষ্ট নেই। ঠান্ডার প্রবণতাও নেই। অভিভাবককে কোন সমস্যা হলে এলোপ্যাথিক ঔষধ দিতে নিষেধ করে দেয়া হলো এবং ক্লিনিকে জানাতে বলা হলো। আপাতত আর ঔষধ লাগবে না বলে জানিয়ে দেয়া হলো।

