Conium Maculatum (con) কোনিয়ম ম্যাকুলেটাম
পরিচয়ঃ ইহার অপর নাম হেমলক (Hemlock), একটি প্রবল বিষ। মহামতি সক্রেটিসকে ইহার প্রয়োগে হত্যা করা হইয়াছিল।তাজা গাছড়া হইতে ইহার টিংচার প্রস্তুত হয়।ইহার গাছ এশিয়া ও ইউরোপে জন্মে। ইহা একটি সোরা দোষ নাশক ঔষধ। ইহার ক্রিয়া অতি ধীরগতিতে হয়।
ধাতুগত বৈশিষ্ট্যঃ দৃঢ় মাংসপেশীবহুল ব্যক্তি অলসভবে দিন যাপন করে তাহাদের ক্ষেত্র উপযোগী। বৃদ্ধ, চিরকুমার বা যাহাদের স্ত্রী বিয়োগ হইয়াছে, তাহাদের জন্য এই ঔষধ অধিক ফলপ্রদ। স্ত্রী বা পুরুষ উভয়েরই বৃদ্ধ বয়সের পীড়া, আঘাত ও পতনের ফলে কোন পীড়া, অত্যধিক ইন্দ্রিয়সেবা বা ইন্দ্রিয় পরিতৃপ্তির অভাবের জন্য পীড়া।
Antidote food/ ঔষধের ক্রিয়ানাশক খাদ্য: কফি, কর্পূর, দুগ্ধ, তামাক ।
ক্রিয়ানাশকঃ কফি, ডাল্ক, নাইট্রিক এসিড, নাইট্রি-স্পিরি-ডল।
- বিধবা বা বিপত্নী পুরুষ-যাদের সঙ্গম ইচ্ছা চাপা দেয়া হয়েছে-তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
- অতিরিক্ত সঙ্গম বা অবরুদ্ধ সঙ্গমেচ্ছা উভয় ক্ষেত্রেই কোনিয়াম উপযোগী।
- অবরুদ্ধ সঙ্গম ইচ্ছার কারণে সৃষ্ট রোগ।
- শয়নকালে মাথা ঘুরানি এবং ঘুমালে ঘাম হয়।
- পক্ষাঘাতের ন্যায় দুর্বলতা।
- প্রস্রাব একটু একটু করে অনেকক্ষণ ধরে হয়-সহজে প্রস্রাব হয় না।
- প্রায়ই তৃষ্ণাহীন এবং লবণ প্রিয়।
ইহা তরুন রোগ অপেক্ষা চিররোগে বেশি ব্যবহৃত হয়, বিশেষত বৃদ্ধ এবং বৃদ্ধাদের ।
ঘুমাইলে বা চোখ বুজিলে খুব ঘাম হয়, চোখ খুলিলেই ঘাম শুকাইয়া যায় এবং রোগী ভিতর হইতে খুব গরম অনুভব করে, বিছানায় শুইলেই মাথাঘোরে, অবরুদ্ধ বা অতিরিক্ত সঙ্গমের কুফল।
ইহার উচ্চশক্তি-নিম্নশক্তি অপেক্ষা অধিক ফলদায়ক।
কাতরতাঃ
গরমকাতর (প্রথম গ্রেড): [Synthesis]
শীতকাতর (দ্বিতীয় গ্রেড): [Dr. Robert Gibson Miller এবং James Tyler Kent]
মায়াজমেটিক অবস্থাঃ (মায়াজমের দোষ নষ্ট করার শক্তি):
- এন্টি-সোরিক (তৃতীয় গ্রেড)
- এন্টি-সাইকোটিক (তৃতীয় গ্রেড)
- এন্টি-সিফিলিটিক (দ্বিতীয় গ্রেড)
-
এন্টি-টিউবারকুলার (তৃতীয় গ্রেড)
মূল কথাঃ
- অতিশয় উদাসীন ও বিষন্ন;
- সর্বদাই অবসন্ন, কোন কাজে ইচ্ছা থাকে না;
- সঙ্গম ইচ্ছা যথেষ্ট, কিন্তু শক্তি আংশিক থাকে বা আদৌ থাকে না;
- গ্রন্থির উপর কোনিয়ামের ক্ষমতা খুব বেশি।
- পীড়ার আরম্ভ ও ক্রমবর্ধমান গতি অথি ধীরভাবে চলিতে থাকে।
- কাহারো সহিত কথাবার্তা বলিতে অনিচ্ছা, নীরবতা পছন্দ।
- একাকী থাকিতে অনিচ্ছা, আবার সঙ্গীও পছন্দ করে না।
- অলস, উদাসীন, অবসন্ন ও বিষন্ন।
- পক্ষাঘাত সদৃশ দুর্বলতা ও শীতার্ততা।
- চিরকুমার বা চিরকুমারীদের জন্য বিশেষভাবে প্রযোজ্য।
- অতিরিক্ত ইন্দ্রিয়সেবাজনিত ধাতুদৌবর্ল্য, শুক্রতারল্য, ধ্বজভঙ্গ।
- বাধাপ্রাপ্ত প্রসাব বা থামিয়া থামিয়া প্রসাব।
- চলন্ত দ্রব্যের দিকে দৃষ্টিপাত করিলে বিবমিষা, মাথাব্যাথা ও শিরঃঘূর্ণন দেখা যায়।(ককউলাস)
-
জাগ্রত অবস্থায় ঘর্ম হয় না; ঘুমের জন্য চোখ বন্ধ করিবার সঙ্গে সঙ্গে শরীর ভীষন ঘর্মযুক্ত হয়।
ব্যবহারস্থলঃ মাথার যন্ত্রণা, মাথা ঘুরা, আঘাত লাগা, ক্যান্সার, চক্ষুরোগ, হাঁপানী, ছানি, স্তনে ও অন্ডকোষে প্রদাহ, কোমরে ও পৃষ্ঠদেশে নানাপ্রকার ব্যথা, রক্তাল্পতা, ঋতুরোগ, স্ত্রীরোগ, পুরুষত্বহীন, পক্ষাঘাত, অম্লশূল কাশি, জ্বর প্রভৃতি পীড়ায় উপযোগী।
ক্রিয়াস্থলঃ গতি বিধায়ক স্নায়ুমন্ডলীর উপর ইহার প্রধান ক্রিয়া।
উপশম/হ্রাসঃ উপবাস করিলে, অন্ধকারে, চাপ দিলে, চেয়ারের উপর পা তুলিলে, গরমে উপশম।
বৃদ্ধিঃ শুইলে, বিছানায় পাশ ফিরিলে, সঙ্গম ইচ্ছা দমনে, ঋতুর আগে ও সময়ে, মানসিক ও দৈহিক পরিশ্রমে, আহারকালে, আহারের পর, আলোকে, বিশ্রামকালে, দুধ খাইলে, ঘর্ষণে, আঘাত লাগিলে বৃদ্ধি।বিছানায় শুইলেই মাথাঘোরা বৃদ্ধি পায়।
ক্রিয়া স্থিতিকালঃ ২১-৪০ দিন।
(inimical অর্থ্যাৎ পরস্পরের গুন নাশক) কোনিনাম ম্যাকুলেটাম এবং নাইট্রিক এসিড।
ঔষধের পরিপন্থী বা অনিষ্টকর খাদ্য (Inimical food) : ঠান্ডা খাদ্য, মদ্য, দুগ্ধ, তামাক ।
লক্ষণ সূত্রঃ এম,
ভট্রাচার্য্য: পৃষ্ঠা-৩০২, এন, সি ঘোষ: পৃষ্ঠা-২৭৬, উইলিয়াম বোরিক:
পৃষ্ঠা-১৬৩, নরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়: পৃষ্ঠা-১৫৪, অতুল কৃষ্ণ দত্ত:
পৃষ্ঠা-৩৮৩, জেমস টেইলর কেন্ট: পৃষ্ঠা-৩৩২, নীলমনি ঘটক: পৃষ্ঠা-২৫৫, ই. বি
ন্যাশ: পৃষ্ঠা-২০৮, জে এম মিত্র: পৃষ্ঠা-৩১৬, এস কে সাহা: পৃষ্ঠা-১৮১, এইচ.
সি এলেন: পৃষ্ঠা-১০৩, জন হেনরি ক্লার্ক: পৃষ্ঠা-৫৪৭ । কে এন মাথুর:
পৃষ্ঠা-৩৬৪।